Facebook Twitter Instagram YouTube

যুক্তরাজ্যে ফেরার খবরে মন্টেসিটোর প্রতিবেশীদের প্রতিক্রিয়া কী?


প্রকাশের সময় : আগস্ট ২২, ২০২৬, ৯:০৫ পূর্বাহ্ণ /
যুক্তরাজ্যে ফেরার খবরে মন্টেসিটোর প্রতিবেশীদের প্রতিক্রিয়া কী?

রাজপরিবারের সঙ্গে তিক্ত সম্পর্কের পর ২০২০ সালে দায়িত্ব ছেড়ে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমিয়েছিলেন প্রিন্স হ্যারি ও তাঁর স্ত্রী মেগান মার্কেল। দীর্ঘ ছয় বছর পর তাঁরা এখন আবার যুক্তরাজ্যে ফেরার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তবে ক্যালিফোর্নিয়ার অভিজাত এলাকা মন্টেসিটোয়, যেখানে তাঁরা এত দিন বসবাস করেছেন, সেখানে তাঁদের বিদায়ের খবর নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে খুব একটা আগ্রহ দেখা যায়নি।

বিশ্বখ্যাত তারকা ও ধনকুবেরদের আবাসস্থল রোদঝলমলে মন্টেসিটোয় হ্যারি-মেগানের ফেরার খবর তেমন সাড়া ফেলেনি। অথচ যুক্তরাজ্যের সংবাদমাধ্যমগুলো বিষয়টি নিয়ে সরব। স্থানীয় লেখক ও সাংবাদিক অ্যান লুইস বারডাখ জানিয়েছেন, স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের ওয়েবসাইটে ব্যাংক ডাকাত খোঁজা বা চিড়িয়াখানায় প্রাণীর মৃত্যুর খবর থাকলেও হ্যারি-মেগানের চলে যাওয়ার কোনো উল্লেখ ছিল না। তিনি বলেন, অপরাহ উইনফ্রের মতো তারকারা এখানে থাকেন, তাই এখানকার বাসিন্দাদের কাছে এই খবরটি বড় নয়।

লস অ্যাঞ্জেলেস থেকে প্রায় ১৬০ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে অবস্থিত ৯ হাজারের কম মানুষের এই ছোট শহরটি তার বিলাসবহুল বাড়ির জন্য পরিচিত। অনেকে মনে করেন, তারকাদের ভিড়ে হ্যারি-মেগান এখানে কিছুটা আড়ালে থাকার সুযোগ পেয়েছিলেন। সন্তান আর্চি ও লিলিবেটকে সেপ্টেম্বরে যুক্তরাজ্যের স্কুলে ভর্তি করানোর উদ্দেশ্যেই তাঁরা এখান থেকে চলে যাচ্ছেন। নিউইয়র্ক টাইমসকে দেওয়া প্রতিক্রিয়ায় স্থানীয়দের বেশির ভাগই বিষয়টিকে স্বাভাবিকভাবে নিয়েছেন। ২১ বছর বয়সী রায়ান সুজা বলেন, তাঁরা যেখানে থাকতে চান, সেটা তাঁদের ব্যাপার। ৭৬ বছর বয়সী বুজ বনসাল বলেন, তাঁরা যেখানে যেতে চান, যেতে পারেন।

৭২ বছর বয়সী জিনা পেনিনো, যিনি হ্যারি-মেগানের বাড়ির কাছেই থাকেন, জানান যে তাঁদের সঙ্গে তাঁদের তেমন পরিচয় নেই। তিনি বলেন, দেখা হলে তাঁরা শুধু হাত নেড়ে চলে যান, কিন্তু তাঁরা যে যুক্তরাজ্যে ফিরে যাচ্ছেন, তা তিনি জানতেন না। দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ায় ছয় বছর ধরে তাঁদের জীবনটা এমনই ছিল—বিশ্বজুড়ে পরিচিতি থাকলেও স্থানীয়দের সঙ্গে যোগাযোগ ছিল খুবই কম।

হ্যারি-মেগানের বাড়ির চারপাশে রয়েছে উঁচু দেয়াল ও কড়া নিরাপত্তাবেষ্টিত ফটক। তাঁদের প্রতিবেশী হিসেবে রয়েছেন জেফ ব্রিজেস, রব লো, গিনেথ প্যালট্রো, অরল্যান্ডো ব্লুম ও ক্যাটি পেরির মতো তারকারা। স্থানীয়দের কাছে তাঁরা সামাজিক কর্মকাণ্ডের চেয়ে মূলত তাঁদের নিরাপত্তাব্যবস্থার কারণেই পরিচিত ছিলেন। কখনো ভুল করে প্রতিবেশীর কুকুর ভেতরে ঢুকে পড়েছে, আবার কখনো বন্ধুদের ভুলে নিরাপত্তা অ্যালার্ম বেজে উঠেছে।

হ্যারি ও মেগান প্রায়ই অভিযোগ করতেন যে, ক্যালিফোর্নিয়ায় আসার পর থেকে আলোকচিত্রী ও সংবাদকর্মীরা তাঁদের পিছু নিয়েছেন। ২০২০ সালে ড্রোন ও দূরপাল্লার ক্যামেরা দিয়ে ছেলে আর্চির ছবি তোলার অভিযোগে তাঁরা মামলা করেছিলেন। ২০২১ সালে অপরাহ উইনফ্রের সাক্ষাৎকারে মেগান ব্রিটিশ ট্যাবলয়েডগুলোর বর্ণবাদী আচরণ ও নিজের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর চাপের কথা উল্লেখ করেছিলেন।

তবে স্থানীয় সাইকেলের দোকানের মালিক জেনিফার ব্লেভিনস জানিয়েছেন, আর্চির চতুর্থ জন্মদিনে একটি সাইকেল উপহার দেওয়ার পর তাঁরা সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন, যদিও মেগানকে তিনি একজন ভালো মানুষ বলেই মনে করেন। সাংবাদিক এলিজাবেথ হোমস মনে করেন, রাজা তৃতীয় চার্লসের শারীরিক অবস্থার কারণে এই সিদ্ধান্ত অস্বাভাবিক নয়। তবে যুক্তরাজ্যে ফেরার পর সন্তানদের গোপনীয়তা রক্ষা ও সংবাদমাধ্যমের নজরদারির চ্যালেঞ্জ তাঁদের মোকাবিলা করতে হবে। লেখক ডিজে ওয়াল্ডি মনে করেন, দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ায় তারকাদের সম্পর্ক বরাবরই অস্থায়ী, যা হ্যারি-মেগানের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য।

আশপাশে থাকেন জেফ ব্রিজেস, রব লো, গিনেথ প্যালট্রো, অরল্যান্ডো ব্লুম, ক্যাটি পেরি, অপরাহ উইনফ্রেসহ আরও অনেক হলিউড তারকা।২০২২ সালে মুক্তি পাওয়া ‘হ্যারি অ্যান্ড মেগান’ তথ্যচিত্রের কিছু অংশও কাছের একটি বাড়িতে ধারণ করা হয়েছিল।

২০২৩ সালে আর্চির চতুর্থ জন্মদিনে তাঁরা তাকে একটি সাইকেল উপহার দেন।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo