Facebook Twitter Instagram YouTube

কাতার বিশ্বকাপের স্মৃতি আর বদলার নেশায় মুখোমুখি ফ্রান্স-মরক্কো


প্রকাশের সময় : জুলাই ৯, ২০২৬, ৬:৩০ পূর্বাহ্ণ /
কাতার বিশ্বকাপের স্মৃতি আর বদলার নেশায় মুখোমুখি ফ্রান্স-মরক্কো

ঐতিহাসিক এক ফুটবল মহাকাব্যের পর বিশ্ব ফুটবল আজ এক মেগা কোয়ার্টার ফাইনাল লড়াইয়ের সাক্ষী হতে যাচ্ছে। বর্তমান বিশ্বের অন্যতম সেরা শক্তি ফ্রান্স মুখোমুখি হচ্ছে বিশ্বকে চমকে দেওয়া দল মরক্কোর। ফুটবল বিশ্লেষকরা একে কেবল একটি সাধারণ ম্যাচ হিসেবে দেখছেন না, বরং ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপের সেই ব্লকবাস্টার সেমিফাইনালের পুনরাবৃত্তি হিসেবেই দেখছেন। যেখানে মরক্কোর স্বপ্ন চুরমার করেছিল কিলিয়ান এমবাপ্পের দল। তবে এবার প্রেক্ষাপট ভিন্ন। একদিকে ফরাসিদের টানা তৃতীয়বার ফাইনালে পৌঁছানোর অদম্য জেদ, অন্যদিকে মরক্কোর বুকে জ্বলছে প্রতিশোধের আগুন।

২০২২ সালের ১৪ই ডিসেম্বর কাতারের আল বাইত স্টেডিয়ামে ২-০ গোলে জয়ী হয়েছিল ফ্রান্স। মরক্কো প্রথমবারের মতো সেমিফাইনালে উঠে বিশ্ব ফুটবলে চমক সৃষ্টি করলেও ফরাসিদের কাছে তাদের সেই ঐতিহাসিক দৌড় থেমে গিয়েছিল। সেই রাতে মরক্কান খেলোয়াড়দের চোখে জল ছিল, যা এখন শক্তিতে রূপান্তরিত হয়েছে। এবারের বিশ্বকাপে এমবাপ্পে অপ্রতিরোধ্য ফর্মে রয়েছেন, অন্যদিকে রাউন্ড অব ষোলোতে কানাডাকে ৩-০ গোলে উড়িয়ে দিয়ে মরক্কো প্রমাণ করেছে তাদের ইস্পাত কঠিন রক্ষণভাগ ও গতিশীল আক্রমণভাগ যেকোনো সময় ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিতে সক্ষম। হাকিম জিয়েশ ও ইউসেফ এন নেসিরির মতো তারকারা এখন আরও ভয়ঙ্কর।

এই হাইভোল্টেজ ম্যাচকে ঘিরে নতুন এক বিতর্কও তৈরি হয়েছে। ফিফা এই কোয়ার্টার ফাইনাল পরিচালনার জন্য সম্পূর্ণ আর্জেন্টিয়ান রেফারিং প্যানেল নিয়োগ করেছে, যার মূল রেফারি ফাকুন্দো তেলো এবং সহকারী হুয়ান পাবলো বেলাত্তি ও গ্যাব্রিয়েল। সোশ্যাল মিডিয়ায় এই সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক সমালোচনার ঝড় উঠেছে। ফ্রান্সের অনেক সমর্থক এটিকে পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র হিসেবে দেখছেন, কারণ কাতার বিশ্বকাপের ফাইনালে আর্জেন্টিনার কাছে হারের স্মৃতি ফরাসিরা এখনো ভুলতে পারেনি। রাউন্ড অব ষোলোতে ফ্রান্স অত্যন্ত হাড্ডাহাড্ডি লড়াই করেছে প্যারাগুয়ের সঙ্গে, যেখানে অনেকটা কষ্টে এমবাপ্পের দল ১-০ গোলে জয় পায়।

মাঠের লড়াইয়ে এমবাপ্পে ও আশরাফ হাকিমির দ্বৈরথ হবে দেখার মতো। পিএসজি’র প্রাক্তন সতীর্থ ও ঘনিষ্ঠ বন্ধু হলেও মাঠের লড়াইয়ে তারা একে অপরের প্রতিপক্ষ। এমবাপ্পে সর্বকালের সেরাদের তালিকায় নিজের নাম লেখাতে মরিয়া। অন্যদিকে, মরক্কোর গোলরক্ষক ইয়াসিন বুনু যদি দেয়াল হয়ে দাঁড়াতে পারেন, তবে এমবাপ্পেকে থামানো সম্ভব হবে। এটি কেবল ৯০ বা ১২০ মিনিটের ফুটবল নয়, বরং অভিবাসন ও ইতিহাসের এক জটিল ক্যানভাস। ফরাসি দলের অনেক খেলোয়াড়ের শেকড় আফ্রিকায় হওয়ায় ম্যাচটি একইসাথে ভ্রাতৃত্বপূর্ণ ও তীব্র প্রতিযোগিতামূলক রূপ নিতে পারে। মরক্কোর কাছে এটি প্রাক্তন ঔপনিবেশিক শক্তির বিরুদ্ধে শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণের ঐতিহাসিক সুযোগ। এই ম্যাচে ফ্রান্সের জয় মানে একটি সোনালি প্রজন্মের আধিপত্য ধরে রাখা, আর মরক্কোর জয় মানে বিশ্ব ফুটবলের চিরাচরিত মেরুকরণ ভেঙে নতুন শক্তির উত্থান।